
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ছুটির সময় আলাদা হলেও মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১০ দিন বন্ধ পাচ্ছেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় সাধারণভাবে পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি থাকছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ছুটির সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাডেমিক বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং পরে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটি যুক্ত হওয়ায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিন ছুটি থাকবে।
কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও রয়েছে দীর্ঘ ছুটি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং পরে ৩০ ও ৩১ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির পরিসর ১৬ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
মাদ্রাসাগুলোর ছুটির সময়সূচি কিছুটা ভিন্ন। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, ইবতেদায়ি ও এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি থাকবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের একাডেমিক বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী দুর্গাপূজার ছুটির সময় নির্ধারণ করবে।
এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণ ছুটির পাশাপাশি অতিরিক্ত ঐচ্ছিক ছুটির সুবিধাও পাবেন। মহাসপ্তমী উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর এবং মহাষ্টমী উপলক্ষে ১৯ অক্টোবর তারা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
১৮ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ও ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হবে।
দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের প্রয়োজন বিবেচনায় এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিংসহ নির্ধারিত কিছু সেবা চালু থাকবে।
তবে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও গণমাধ্যমসহ জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য সাধারণ ছুটি প্রযোজ্য হবে না। জনস্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।