
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী কার্ড করতে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনলাইনে আবেদন, ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়া থেকে শুরু করে কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কথিত দালালদের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
সম্প্রতি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ফর্ম জমা দিতে না পেরে এমন অভিযোগ করেন সোহাগদল ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের সাহানা বেগম।
সাহানা বেগমের অভিযোগ, তাদের এলাকায় হাফিজা আক্তার নামে এক নারী ঘুরে ঘুরে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন। তাঁর ছোট প্রতিবন্ধী ছেলের কার্ড করার জন্য অনলাইনে আবেদন বাবদ প্রথমে হাফিজা আক্তারকে ৫০০ টাকা দেন তিনি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর হাফিজা একটি ফর্ম এনে সেটি অফিসে জমা দেওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দাবি করেন। কার্ড হাতে পাওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ তার।
সাহানা বেগম বলেন, তার স্বামী করাতকলে সামান্য বেতনে কাজ করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় তিনি নিজেই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমকে বিষয়টি জানান। তার দাবি, একই এলাকা থেকে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা এবং পরে ২ হাজার টাকা করে নিয়েছেন হাফিজা আক্তার।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামীর সঙ্গে কথিত দালাল হাফিজা আক্তারের সখ্যতা রয়েছে। টাকা দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে তুলনামূলকভাবে কম ভোগান্তি পোহাতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত রোববার সরেজমিনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে হাফিজা আক্তারকে পাওয়া যায়নি। তবে আকলিমা নামে আরেক নারীকে বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধী কার্ডের ফর্মের কাগজপত্রসহ কার্যালয়ে দেখা যায়। এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে জানতে চাইলে তিনি দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
পরে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তার স্বামী প্রথমে স্ত্রী অসুস্থ উল্লেখ করে কথা বলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে রেহানা বেগম তার স্বামীকে অফিস থেকে চলে যেতে বললে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে রেহানা বেগম বলেন, ‘আমি কোনো দালালকে চিনি না। অফিসে এসে ফর্ম জমা দিলেই স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করি। দালালদের সঙ্গে আমার স্বামীর কোনো সখ্যতা নেই।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। অফিসের কাজে একটু বাইরে আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রতিবন্ধী ফর্ম পূরণসহ কার্ড পেতে অফিসে কোনো টাকা লাগে না।’