
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে নিজের দুই গর্ভজাত সন্তানের ওপর এক মায়ের নৃশংস হামলার অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঘরে থাকা ধারালো ছুরির কোপে মো. আশরাফুল নামের সাড়ে তিন বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ঘাতক মায়ের হামলায় গুরুতর জখম হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯ বছর বয়সী বড় বোন সিরজাতুন। স্থানীয় পর্যায়ে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের অন্তর্গত খালিয়াড়বাইদ এলাকায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। ওই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহীন মিয়ার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আকলিমা আক্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। উক্ত পারিবারিক কলহের জের ধরে একপর্যায়ে আকলিমা আক্তার চরম উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা কেক কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে দুই সন্তানকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অবুঝ শিশু দুটি রক্তাক্ত ও মারাত্মকভাবে আহত হয়।
ঘটনার পরপরই ঘরের ভেতর থেকে শিশুদের কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য স্বজনেরা দ্রুত ছুটে আসেন। তাঁরা দ্রুত রক্তাক্ত দুই ভাইবোনকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাড়ে তিন বছরের শিশু আশরাফুলকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত মেয়ে সিরজাতুনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন জানান, মর্মান্তিক খবরটি পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহসহ তদন্ত শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি থানায় মামলা দায়ের এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।