
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের দুই স্থানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাবি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা যাদের লাল কার্ড দেখিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে, এ দেশের জনগণ তাদের আর কোনোদিন রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দেবে না।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত হাজারো ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো সন্ত্রাসীদের ন্যূনতম রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’ হলে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শিপন বলেন, ৫ আগস্টের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে গুপ্ত রাজনীতি পরিচালিত হতো, একটি গোষ্ঠী আবারও সেই গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় সুযোগ বুঝে নামমাত্র পদত্যাগ করে হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগ কর্মীদের সজাগ দৃষ্টিতে রাখতে হবে এবং তাদের চক্রান্তের ‘বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে’। ফ্যাসিবাদী অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হওয়ায় ‘এই সন্ত্রাসীরা’ আবারও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাদের রাজপথে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়ে শিপন বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম ও রাব্বির রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখতে ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ অবস্থানে থাকতে হবে। এদিকে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ঘটনার তদন্তের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও শহীদ মিনার আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সড়কে দুটি এবং টিএসসি এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।