• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

আগৈলঝাড়ায় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা ও পুলিশের ওপর আক্রমণ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একাধিক মামলার আসামী রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে পুলিশ। থানার জেল হাজতে বসে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পরে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পরলে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে হামলা করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে। ডিউটি অফিসারসহ ৬জন পুলিশ ও মিছিলকারী ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত প্রতিপক্ষের কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো.ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকির(২৬) কে একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরে রিয়াজকে থানার জেল খানায় রাখার পরে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে পরলে বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব তার এলাকায় ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার শতাধিক লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা করলে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ.হালিমকে মারধর করে। পুলিশও বাশঁ ও লাঠি নিয়ে মিছিলকারীদের উপর হামলা করলে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম(৫০), বোন শারমিন আক্তার(২৮) মমতাজ বেগম(৪৭)সহ ৬জন আহত হয়েছে। গ্রেফতার আতংকে আহত অনেকে গোপন চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়াও মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ.হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ.হালিমকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
এব্যাপারে রিয়াজ ফকির’র মা নাছরিন বেগম ও পিতা সিদ্দিক ফকির সাংবাদিকদের জানান, আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জেলখানায় বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পরলে তাকে বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার কারনে পরিকল্পিত ভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...