• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

বৈধ ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশ করা যাবে না: দিল্লি হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের আইনগত অধিকার নিশ্চিত হয় না বলে গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, ভিসা ইস্যু করা এবং দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া দুটি পৃথক বিষয়।

তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের করা মামলার শুনানি শেষে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি অমিত মহাজন এ রায় দেন।

আদালত বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, পররাষ্ট্রনীতি, জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক বিবেচনায় ভারতের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধ ভিসাধারী কোনো বিদেশি নাগরিককেও দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিতে পারে।

মামলাটি করেন তুর্কমেনিস্তানের নাগরিক আন্নাগুরবানোভা ইয়াজবিবি। তার দাবি, বৈধ পাসপোর্ট ও ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের ২৫ মার্চ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তাকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। তবে একই বিমানে থাকা তার স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এরপর দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন ইয়াজবিবি। প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং তার ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছিলেন তিনি।

আবেদনে ওই নারী অভিযোগ করেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো স্পষ্ট কারণ জানায়নি।

শুনানিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছে বৈধ ভিসা থাকা মানেই ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের ‘অবিচ্ছেদ্য’ বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার তৈরি হয় না। ভিসা প্রদান এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দুটি পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

সরকারের আইনজীবীরা আরও জানান, ভারতে প্রবেশের সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন।

আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু ‘প্রতিকূল তথ্য’ পাওয়া গিয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার আগের ভারত সফরের তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করে। এসব নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। অধিকাংশ সফরের সময়কাল ছিল এক থেকে তিন দিন। এসব সফরে তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।

আদালত সরকারের উপস্থাপিত নথিপত্রও পর্যালোচনা করে। সেখানে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তার কাছে ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা কোনো আমন্ত্রণপত্র ছিল না বলে আদালতের নথিতে উঠে আসে। নিজ দেশের ব্যবসা সম্পর্কেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি বলে জানানো হয়।

আদালত আরও বিবেচনায় নেয়, ব্যবসায়িক ভিসার জন্য আবেদন করলেও ওই নারী নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এসব বিষয় বিবেচনা করে আদালত স্পষ্ট করে যে, বৈধ ভিসা থাকা একাই কোনো বিদেশি নাগরিককে ভারতে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। সীমান্তে প্রবেশের চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...