• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪ শ্রমিক আন্দোলনে নিহত গাইবান্ধার পোশাক শ্রমিক তৌফিকের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী চরমোনাই মাদ্রাসার বাৎসরিক মাহফিল উপলক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিসিসির উপসহকারী প্রকৌশলী কারাগারে স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্টের জেরে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

পিরোজপুরে স্ত্রীর পরকীয়া দেখে ফেলায় যুবককে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে হ’ত্যা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালের দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া (৮ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি আহাদ হাওলাদার মুরসালিন (৬) এবং মুসফিকা (সাড়ে ৩ বছর) নামের দুটি সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বামী বাপ্পি ও তার পরিবার এতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র তৈরির অজুহাতে মীম প্রায়ই ঢাকায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন মীম বাপ্পিকে না জানিয়ে পুনরায় ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে ভিডিও কল দিলে মীম যে হোটেল রুমে ছিলেন, সেখানে এক পুরুষকে দেখতে পান বাপ্পি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম জানান, গতকাল (সোমবার) রাতে খাবার শেষ করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন।

মীম আরও বলেন, তিনি একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন। তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে এখন গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত। অন্যজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। দুই দিন আগেও ঢাকায় অন্য জনের সঙ্গে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রত্নেশর কুমার মন্ডল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...