
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বরিশাল নগরের বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন, জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়নে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে নগরীর ৩০টি খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন এবং দশটি পুকুর পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় বরিশাল নগরীর হারিয়ে যাওয়া ৩০টি খাল ও ১০টি পুকুর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সাথে খাল ও পুকুরের আরে বৃক্ষ রোপণ ও সৌন্দর্য বর্ধন করায় জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়ন হবে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, খালের নাব্য ফিরে আসবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুকুমুল হাকিম রেজা জানান, খালগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নাপিতখালী খাল, ভেদুরিয়া খাল, কলাডেমা খাল, কাশীপুর খাল, সোলনা খাল, তাজকাঠি খাল, চৌপাশা খাল, লাকুটিয়া খাল, নথুল্লাবাদ খাল, ভেদুরিয়া খাল, বানিয়াকাঠীর খাল, হরিনাফুলিয়া খাল, জাগুয়া খাল, সোলনা খাল, টিয়াখালি খাল। আর পুকুরগুলোর মধ্যে রয়েছে চৌমাথা লেক, গোলপুকুর, বদ্ধভূমি পুকুর, কাউনিয়া সেকশন পুকুর, গড়িয়ারপার লেক আমানতগঞ্জ পুকুর।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বরিশাল নগরীর বিভিন্ন খাল খনন, খালের পাড় সংরক্ষণ, অবৈধ দখল ও দূষণ থেকে খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং পুনঃখননের লক্ষ্যে নেওয়া এ প্রকল্প নগরীর সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের আওতায় ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন এবং ২০টি খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সাথে দশটি পুকুর খনন ও এর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ রয়েছে।
বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে বরিশালবাসীর পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই কারণ এর আগে বরিশাল নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করার এমন প্রকল্প নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খালগুলো পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন করা হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।