
দেশের সাধারণ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার ছাতায় আনতে চালু করা সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারিত ও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রাহক বান্ধব এই ব্যবস্থার গতি বাড়াতে এতে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন ছয়টি বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অন্তত পাঁচ বছর নিয়মিত চাঁদা পরিশোধের পর শারীরিক বা আর্থিক সংকটে গচ্ছিত অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা, মূল সুবিধাগ্রহীতার প্রয়াণে তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন প্রদান, পেনশন পাওয়ার সর্বনিম্ন বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছরে নির্ধারণ, ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা চালু, স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা প্রদান এবং স্কিম নিবন্ধনকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন বৃদ্ধি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে আয়োজিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪র্থ নীতি নির্ধারণী সভায় এসব নতুন প্রস্তাবমালা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে সর্বমোট ১১টি এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচি রাখা হয়েছে। পরিচালন পর্ষদের নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পরপরই জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সুবিধাসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের পদক্ষেপে যাবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট দেশের চারটি নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রায় ১০ কোটি নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশে প্রথম সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার শুভ সূচনা করা হয়। বর্তমানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’, ‘সমতা’ ও ‘প্রবাস’—এই চারটি পৃথক ক্যাটাগরিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংগৃহীত সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও দাপ্তরিক তথ্যানুসারে, চালুর পর তিন বছরের মাথায় এই চারটি স্কিমে নিবন্ধিত মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জনে। এসব গ্রাহকের জমাকৃত সর্বমোট আমানতের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকায় পৈাঁছেছে।
বিদ্যমান পেনশনের নিয়মানুযায়ী একবার কোনো স্কিমে যুক্ত হলে সেখান থেকে সহজে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল না। চাঁদাদাতারা আকস্মিক কোনো আর্থিক বিপদে পড়লে জমা টাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগতেন। প্রস্তাবিত নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য অন্তত ৫ বছর চাঁদা দেওয়ার পর দৈহিক বা অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমা অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আগে গ্রাহকের মৃত্যুর পর কেবল ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাঁর নমিনি পেনশন পেতেন; প্রস্তাবিত নিয়মে গ্রাহক মারা গেলেও তাঁর জীবিত স্বামী বা স্ত্রী আমৃত্যু সেই পেনশন ভোগ করতে পারবেন।
এছাড়া সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসার নির্ধারিত বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত পর্ষদের ২য় সভায় ৬০ বছর বয়স পূর্তিতে গচ্ছিত জমার ৩০ শতাংশ অর্থ এককালীন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের অনুমোদন হয়েছিল। সুদ মুক্ত ইসলামি অর্থব্যবস্থায় আগ্রহী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ ক্যাটাগরি চালুর পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিমার নতুনত্ব আনা হচ্ছে। অধিকসংখ্যক গ্রাহক নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও বিভিন্ন এমএফএস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ১৫ টাকার কমিশন বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ ঝুঁকি সামলাতে একটি বিশেষ রিজার্ভ বা ‘কনটিনজেন্সি তহবিল’ গঠনের জোরালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।