
যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাহিদ সুলতানা (দীপ্তি ৩০) বাদী হয়ে পটুয়াখালীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ৬৮৫/২০২৫, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ৪. সাইদুর রহমান খান ওরফে (মিজানুর রহমান) বরিশাল সিটি করপোরেশন এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ( বিদ্যুৎ) গত ২৮ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করে।
মামলার আসামিরা হলেন— ১. স্বামী মোঃ শফিউর রহমান খান (৪০), ২. মালা আক্তার (৫০), ৩. মনি আক্তার (৪৫), এবং ৪. সাইদুর রহমান খান ওরফে (মিজানুর রহমান) বরিশাল সিটি করপোরেশন এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ( বিদ্যুৎ) শাখায় কর্মরত। আসামিরা পটুয়াখালী জেলার বাউফল ও দুমকি থানা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার মোঃ হেলাল উদ্দিনের মেয়ে নাহিদ সুলতানা দীপ্তির সাথে বাউফল উপজেলার দক্ষিণ মদনপুরা গ্রামের মৃত মতিউর রহমান খানের ছেলে মোঃ শফিউর রহমান খানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আসামিরা বিভিন্ন সময় দীপ্তির কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।
সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গৃহবধূ দীপ্তিকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন।
এঘটনায় আদালতে হাজিরা দিলে বরিশাল সিটি করপোরেশন এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) সাইদুর রহমান খান ওরফে (মিজানুর রহমান) সহ বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আসামিদের অনমনীয় মনোভাব এবং দফায় দফায় নির্যাতনের কারণে অবশেষে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নারী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।