
রাজধানীর গুলিস্তান-জিপিও এলাকায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের পর হেফাজতে নেওয়া প্রায় ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে পরিচয় যাচাই শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, পরিচয় যাচাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে যাচাই শেষ না হওয়ায় বাকি ২৯ জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। যদিও সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আরও ২৭ জন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযানের সময় জাসদ কার্যালয় থেকে সাংবাদিক নেতা ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানের পর ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, পুলিশ জানতে পেরেছিল জাসদ ও আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা সেখানে একত্র হয়েছেন।
পুলিশের কাছে সেখানে জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ারও তথ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার রাতে হারুন অর রশিদ বলেন টিবিএসকে বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের বিষয়ে অন্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’
শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা চলছিল। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে একদল লোক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ ছিল, সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে একে একে বের করে থানায় নিয়ে যায়। প্রথমদিকে পুলিশ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানালেও অভিযান শেষে সংখ্যা বেড়ে ২৭৮ জনে দাঁড়ায়।
জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিয়ম মেনেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করেছিল।
দলের দাবি, সভায় মাইক ব্যবহার ও নিরাপত্তার জন্য তারা ডিএমপি কমিশনার এবং মতিঝিল বিভাগের ডিসির কাছে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর আবেদন করে। জাসদ দাবি করেছে, ওই আবেদনের কপিতে পুলিশের গ্রহণের সিল ও স্বাক্ষরও রয়েছে।
তবে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম এমন আবেদনের বিষয়ে তার জানা নেই বলে মন্তব্য করেন।