
দীর্ঘ ১০ বছর আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না বরিশালের মুলাদী থানার চাঞ্চল্যকর অস্ত্র মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. কামাল হোসেন ব্যাপারীর (৩৪)। অবশেষে র্যাব-৮ ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে র্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাফল্য অর্জন করছে সংস্থাটি।
এরই অংশ হিসেবে র্যাব-৮, সদর কোম্পানি, বরিশাল এবং র্যাব-১০, সদর কোম্পানি, কেরানীগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ২৭ আগস্ট বিকেলে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চড়াইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বরিশাল জেলার মুলাদী থানার অস্ত্র মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. কামাল হোসেন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার কামাল হোসেন ব্যাপারী বরিশাল জেলার মুলাদী থানার চর বাটামারা এলাকার মৃত আব্দুল ওয়াহেদ ব্যাপারীর ছেলে। তার মায়ের নাম মোসা. মাজেদা বেগম।
র্যাবের তথ্যমতে, কামাল হোসেন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বরিশালের মুলাদী থানায় দায়ের হওয়া একটি অস্ত্র মামলা পরবর্তীতে ঢাকা মহানগরীর হাজারীবাগ থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার নম্বর ১৮(০৯)১৬। পরবর্তীতে মামলাটি মেট্রো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৭৪/১৭ হিসেবে বিচারাধীন ছিল। মামলায় ঞযব অৎসং অপঃ, ১৮৭৮-এর ১৯(চ) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা র্যাব-৮-এর অধিনায়কের কাছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮, বরিশাল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তার মো. কামাল হোসেন ব্যাপারীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।