• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

বেড়েছে সব স্তরের সিগারেটের দাম

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

দেশে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সিগারেটের দাম নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং এ খাতে রাজস্ব ঘাটতি কমানোই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

অন্যান্য স্তরের দামও সীমিত হারে বৃদ্ধি
মধ্যম স্তর: ৮০ টাকা → ৯২ টাকা
উচ্চ স্তর: ১৪০ টাকা → ১৬০ টাকা
প্রিমিয়াম স্তর: ১৮৫ টাকা → ২১০ টাকা
বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম, ফলে তামাক ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ আসবে না।
কর কাঠামো অপরিবর্তিত, কোম্পানির মুনাফা বাড়ার শঙ্কা
তামাক নিয়ন্ত্রণে কর কাঠামোয় বড় কোনো সংস্কার না থাকায় বাড়তি দামের একটি অংশ কোম্পানির মুনাফা হিসেবে থেকে যেতে পারে। এতে তামাক কোম্পানিগুলো আরও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞা ও আত্মা’র প্রস্তাব অনুযায়ী
নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ
সুনির্দিষ্ট শুল্ক (প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা) আরোপ
এগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।
বাজেটে বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় এগুলো আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।
নিকোটিন পণ্য ও নতুন কর প্রস্তাব
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে—
নিকোটিন পাউচে ৪০% সম্পূরক শুল্ক ও ৫০০ টাকা খুচরা মূল্য
হিটেড টোব্যাকোতে ৬৭% শুল্ক ও ২১০ টাকা দাম
নিকোটিন গ্র্যানুলসে ৩৫০% শুল্ক
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব থাকলেও তা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাজেট পাস হলে তামাকপণ্য আরও সস্তা ও সহজলভ্য হবে, ফলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে পড়বে এবং মৃত্যুহারও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন, এবং প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যান বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞা ও আত্মা সরকারকে চূড়ান্ত বাজেটে শক্তিশালী তামাক কর সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...