• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন

নিজের স্ত্রীকে কখনো মেয়ে, কখনো ভাতিজি সাজিয়ে বিয়ে, দম্পতি গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

নিজের স্ত্রীকে কখনো মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, নতুন বিয়ের পর ওই নারী কিছুদিন স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করতেন। এরপর সুযোগ বুঝে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক নববিবাহিত যুবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী যুবকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয় কিছুদিন আগে। বিয়ের সময় এক ব্যক্তি নিজেকে পাত্রীর চাচা হিসেবে পরিচয় দেন। এমনকি তিনি নিজেই কন্যা সম্প্রদান করেন এবং পাত্রীকে নিজের একমাত্র ভাতিজি বলে দাবি করেন।

বিয়ের পর প্রায় এক মাস সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে ওই যুবকের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর তিনি স্ত্রীর অতীত সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করেন।

খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই নারী আগে থেকেই বিবাহিত। শুধু তাই নয়, বিয়ের সময় যিনি নিজেকে তার চাচা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনিই আসলে ওই নারীর স্বামী বলে অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ওই দম্পতির দুই মেয়ে রয়েছে এবং তাদের দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পুরো ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান।

তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন ওই দম্পতি। শেষ পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগে নববিবাহিত যুবক পুলিশের দ্বারস্থ হন।

তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের দাবি, জেরার মুখে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হওয়ার কথা স্বীকার করেন।

তদন্তকারীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ওই দম্পতি একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবারকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

কখনো স্ত্রীকে নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি পরিচয় দিয়ে পাত্রপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এরপর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর ওই নারী নতুন স্বামীর বাড়িতে যেতেন।

পুলিশের অভিযোগ, সেখানে কিছুদিন থাকার পর সুযোগ বুঝে নগদ টাকা, গয়না ও অন্যান্য দামি জিনিস নিয়ে তিনি চলে যেতেন।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এভাবে একাধিক পরিবার প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারে। তবে সামাজিক সম্মান ও লোকলজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেননি বলে ধারণা পুলিশের।

বর্তমানে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বারাসত মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং অতীতে তারা কতজনকে একইভাবে প্রতারণা করেছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...