
বরিশালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রির পরও ওই জমিতে পুনরায় প্রবেশ, সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড অপসারণ এবং দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা মাসুম বিল্রাহর বোন অভিযোগকারী মোসাঃ সোনিয়া বেগম।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। সোনিয়া বেগম বরিশালের কাউনিয়া থানাধীন হাওলাদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
তাঁর দাবি, তাঁর মামাতো ভাই মো. মাসুম বিল্লাহ গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ৫৯৪৫ নম্বর সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মুকুন্দপট্টি এলাকার মো. আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে ৭১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
দলিল সম্পাদনের পর বিক্রেতা জমির দখল বুঝিয়ে দেন বলেও তিনি জানান। তবে গত ২৪ জুলাই আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমিতে প্রবেশ করে নবনির্মিত সাইনবোর্ড ও সীমানা পিলার উপড়ে ফেলেন। তার মামাতো ভাই মাসুম বিল্লাহ বিদেশে থাকায় খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পরে কাউনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন অভিযোগকারী সোনিয়া বেগম।
অভিযোগকারী আরও জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কলাডেমা-চহট্টা এলাকায় আরও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি তাঁর মামাতো ভাই আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে দলিলের মাধ্যমে কিনেছেন । সেই জমিও আমিনুল ইসলাম দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করে বিমানবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
সোনিয়ার দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি আমিনুল ইসলাম তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। প্রশাসনের লোক পরিচয়ে এলাকায় গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, দলিল, খতিয়ান, জমাখারিজসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই এবং সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব। কোনো পক্ষের বক্তব্য একতরফাভাবে গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোনিয়া বেগম বরিশাল জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্রয়কৃত জমি উদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কোনো সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারিরও দাবি করেন তিনি।