সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের চরগাজীপুর গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তারের (১৩) মৃত্যুর ঘটনায় রাজিব খান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তবে এ ঘটনায় আগে আলোচনায় আসা সিয়াম, সালমান ও রিয়াজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৫ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে উকুননাশক ওষুধ পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে সুমাইয়া। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, একই এলাকার মৃত কামাল খানের ছেলে রাজিব খানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সুমাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় রাজিব বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে অপমান এবং মারধর করে বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুমাইয়া বাড়িতে ফিরে বিষপান করে।
নিহতের কাকী নাসিমা বেগম বলেন, “হাসপাতালে নেওয়ার পর সুমাইয়া আমাকে জানায়, রাজিব তাকে থাপ্পড় মেরে বলেছে তার পরিবার কখনো তাকে মেনে নেবে না। ওই ঘটনার পর অভিমান করে সে বিষপান করে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের বাবা মামুন শেখ বলেন, “মেয়ের মৃত্যুর প্রায় সাত দিন আগে একটি ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে এলাকায় আলোচনা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি মেয়ের সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, তার কোনো অশ্লীল ছবি নেই। তবে রাজিবের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। মৃত্যুর দিন বিকেলে রাজিব বিয়ে করবে না বলে অপমান করে। এরপরই সে এমন সিদ্ধান্ত নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “সিয়াম, সালমান ও রিয়াজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস খান ভুল তথ্য দিয়ে সবাইকে হয়রানি করেছেন। সিয়ামের মোবাইলে কোনো ছবি পাওয়া গেছে বলে যে দাবি করা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয়।”
পরিবারের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর আগে সুমাইয়া তার বাবার উদ্দেশে একটি চিরকুট লিখেছিল, যা পরে রাজিব নিয়ে যায়। এ বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহাব্বাত খান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ রকম আরো সংবাদ...