
মাথার ওপর ঝুলছে বিপদের শঙ্কা। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের ভেতরে ঢুকলেই আতঙ্ক- কখন মাথার ওপর ভেঙে পড়ে ছাদের অংশ! তাই বাধ্য হয়ে মাথায় হেলমেট পরে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শতাধিক মানুষও আতঙ্ক নিয়ে প্রবেশ করছেন ভবনটিতে।
গত রবিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তিনি আহত হন। পরিষদ সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর আগেও পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। কোথাও ছাদের অংশ দুর্বল হয়ে ঝুলে আছে। ঝুঁকি এড়াতে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ মাথায় হেলমেট পরে দাফতরিক কাজ করছেন। অথচ হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোতে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন।
সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এখানে এসে সেবা নেওয়া ছাড়া আমাদের উপায় নেই। কিন্তু ভবনের অবস্থা দেখে সবসময় ভয় লাগে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই যদি হেলমেট পরে কাজ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদ বোধ করবে? দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নিরাপদ জায়গায় সেবা কার্যক্রম নেওয়া দরকার।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন,ভবনের কোনো কক্ষই নিরাপদ নয়। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিদিন মানুষ সেবা নিতে আসেন। পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন,জায়গা স্বল্পতার কারণে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের কাজ শুরু করা যাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের চলাচল অব্যাহত থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ভবনটির ঝুঁকি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কিংবা বিকল্প স্থানে সেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।