• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাবার মরদেহ সামনে রেখে কবরের জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ, দাফন করলেন এলাকাবাসী কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ‘ভোল পোয়া’, ১১ হাজার টাকায় বিক্রি বরিশালে শিক্ষার্থীদের শপথ পড়ালেন জেলা প্রশাসক লালমোহনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বল বিক্রি হলো ৩৩ লাখ ডলারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত রংপুরে ৪ হত্যা, ঘটনাস্থলে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ বরিশালে থ্রি-হুইলার ও বাস শ্রমিকদের দ্বন্ধে বাস চলাচল বন্ধ উপজেলা প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ‘ভোল পোয়া’, ১১ হাজার টাকায় বিক্রি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘ভোল পোয়া’। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘বড়চোখা পোয়া’ ও ‘সাদা পোয়া’ নামেও পরিচিত। প্রায় ৩ কেজি ওজনের ব্যতিক্রমী আকৃতির মাছটি দেখতে আলিপুর মৎস্য বন্দরে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের সিফাত ফিসে আনা হয়। পরে খোলা ডাকের মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা মণ দরে মাছটি বিক্রি হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রাকিবুল ইসলাম ১১ হাজার ১২৫ টাকায় মাছটি কিনে নেন।

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ‘এমএস সিফাত’ নামে একটি ট্রলারের মাঝি শাইখুলের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে সেটি দেখতে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা ভিড় করেন।

ট্রলারের মাঝি শাইখুল বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ জালে বড় আকৃতির মাছটি উঠে আসে। এত বড় ও দেখতে ব্যতিক্রমী মাছ আগে খুব একটা দেখিনি। জালে এমন মাছ উঠবে, তা ভাবতেও পারিনি।

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, সাগরে এমন দুর্লভ মাছ পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। মাছটির আকার ও গঠন অন্যরকম। এ ধরনের মাছ ধরা পড়লে জেলেদের পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসায়ীরাও উৎসাহিত হন।

মাছটির ক্রেতা মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, ঢাকার এক ব্যবসায়ীর অর্ডারে তিনি মাছটি কিনেছেন। তার ঢাকার ব্যবসায়ী অংশীদার মাছটি বিদেশে রপ্তানি করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পোয়া বা ক্রোকার গোত্রের (Family: Sciaenidae) মাছের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে এ গোত্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। তবে মাছটির নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, মাছটি বড় ও গভীর দেহ, বড় মাথা, প্রশস্ত মুখ এবং রূপালি-ধূসর বর্ণ পোয়া গোত্রের কয়েকটি প্রজাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটিকে পোয়া মাছ বলে ধারণা করা গেলেও নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের ভোল পোয়া মাছ ধরা পড়া সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি ইতিবাচক দিক। বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। মাঝে মাঝে বিরল প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...