
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় ৪৩ জনের নামোল্লেখ করে মামলা করা হয়। এই মামলায় আসামির তালিকায় দুইজন সাংবাদিক নেতাও আছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পুরো হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও, আলোচিত এ মামলার ২১ নাম্বার আসামি করা হয়েছে সংবাদ সংগ্রহের জন্য থানা কম্পাউন্ডে যাওয়া আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন এবং ২৩ নাম্বার আসামি করা হয়েছে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে। তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে আসামিদের উস্কানি বা প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও মামলার আসামি এফএম নাজমুল রিপন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সম্প্রতি সময়ে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান তার (নাজমুল রিপন) বিরুদ্ধে একাধিক জিডি করেছেন। ওসির ওই জিডি প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে মানববন্ধন করা হয়।
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ওসি ষড়যন্ত্র মূলকভাবে আলোচিত এ মামলায় আমাদের দুইজনকে আসামি করেছেন। এছাড়াও দেশে না থাকা অনেক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যা বাস্তব ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের এবং প্রাথমিক তদন্তে গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা চালানোর ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
ওসি আরও জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে তদন্ত করছেন। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত না থাকলে তাকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হবেনা। বরং মামলার এজাহারে তাদের নাম থাকলেও অব্যাহতি দেওয়া হবে।
এদিকে পুলিশ বাদী হয়ে দুই সাংবাদিক নেতাকে মামলায় আসামি করার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরিশাল সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা।