
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ‘মূলহোতা’ হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের ৫ জুন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর এক বিচারক। কিউবার গুয়ানতানামো বে সামরিক ট্রাইব্যুনালে এ বিচার অনুষ্ঠিত হবে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা এ আদেশ দেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা মামলাটিতে এটি সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বিচারক শ্রামার ১১ পৃষ্ঠার আদেশ অনুযায়ী, খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ওয়ালিদ মুহাম্মদ সালেহ মুবারক বিন আতাশ, মুস্তাফা আহমেদ আদম আল-হাওসাউই এবং আলী আবদুল আজিজ আলীও বিচারের মুখোমুখি হবেন।
বিচারের শুরুতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। সামরিক বিচারব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই প্যানেল জুরির দায়িত্ব পালন করবে। প্যানেল গঠনের ৩০ দিন পর রাষ্ট্রপক্ষের উদ্বোধনী বক্তব্য শুরু হবে। এরপর প্রসিকিউশন তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে।
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপন শেষ হলে আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। এসব আবেদনের বিষয়ে উভয় পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন এবং পরস্পরের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষকে আবারও নিজেদের মামলা উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষ হওয়ার ৬০ দিন পর আসামিপক্ষ তাদের প্রধান প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করবে। এরপর মামলার শেষ ধাপে সাজা নির্ধারণের শুনানি হবে।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বিচারক শ্রামা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, ওই সময়ের মধ্যে বিচার শুরুর আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও অন্যান্য আইনি বিষয়ে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে না।
গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক চার আসামিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছে। গত মাসে একটি মার্কিন আপিল আদালত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহযোগীকে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই চুক্তির আওতায় দোষ স্বীকার করলে মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর সুযোগ ছিল তাদের।
আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত সামরিক বিচারক এবং মার্কিন কোর্ট অব মিলিটারি কমিশন রিভিউয়ের আগের সিদ্ধান্তকে উল্টে দেয়। গত বছর আসামিদের সঙ্গে ওই সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পেন্টাগনের গুয়ানতানামো সামরিক আদালতের তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাও তা অনুমোদন করেছিলেন। তবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন গত আগস্টে চুক্তিটি বাতিল করেন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। এর মধ্যে দুটি নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে এবং একটি পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।
খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ওই হামলার পরিকল্পনা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ২০০২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন বিদেশি জঙ্গি সন্দেহভাজনদের আটক রাখতে গুয়ানতানামো বে কারাগার প্রতিষ্ঠা করে।