
ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ জারি করেছে সরকার। খসড়া আমদানি নীতিতে ৩৭৫ সিসির মোটরসাইকেল (বাইক) আমদানি নিয়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত আমদানি নীতি আদেশে বিধানটি যুক্ত করা হয়নি। এতে আগের মতোই ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যদিও দেশে বর্তমানে ৩৫০ সিসির রয়্যাল এনফিল্ড আমদানি ও তার ব্যবহার শুরু হয়েছে। অন্যান্য ব্র্যান্ডও ১৬৫ সিসির বেশি মোটরবাইক আমদানি করে বিক্রি শুরু করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ জারি করা হয়েছে।
গত সোমবার এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। এতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি, ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিগত স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমদানি নীতির তৃতীয় অনুচ্ছেদের নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকার ৮ নম্বরে বলা হয়েছে, ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ। তবে পুলিশ বিভাগের ক্ষেত্রে ১৬৫ সিসির এ সীমা কার্যকর হবে না। শর্ত দিয়ে বলা হয়েছে মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ আমদানি করতে পারবে। তবে এ যন্ত্রাংশ কীভাবে ব্যবহার হবে, তার কোনো ব্যাখ্যা আমদানি নীতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
নতুন নীতি আদেশে বলা হয়েছে, ঋণপত্র না খুলে ক্রয় বা বিক্রয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করা যাবে। শিল্প খাতে ও বাণিজ্যিক আমদানিযোগ্য সব উপকরণ ও পণ্য ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মূল্য এবং পরিমাণ অনুযায়ী পণ্য আমদানি করা যাবে। তবে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ও মূল্যের বিধান রাখা হয়েছে। এর জন্য আমদানিকারককে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে নিবন্ধিত হতে হবে।
নতুন নীতিতে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি কার্যক্রম পরিচালনায় অধিকতর স্পষ্টতা ও কাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, আমদানি শর্ত, প্রয়োজনীয় সনদপত্র, উৎস দেশ নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধিমালা অনুসরণের বিষয়গুলোকে আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে। নীতিতে আমদানি পণ্যের উৎপত্তি দেশসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পণ্যের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তির আওতায় সুবিধা গ্রহণ সহজ হবে।