
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে (শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত)। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৭ জনে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৪টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ৮৪৩। এই সময়ে ৭৬১টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৭১টি শিশু।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই হাম রোধে সরকারি তৎপরতা ছিল না বললেই চলে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে চরম অবহেলা করা হয়। এর ফলে এবার হামের এই ভয়াবহ প্রকোপ। বাংলাদেশের ইতিহাসে হামে এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নেই। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে প্রকোপ ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করলে সরকারি তৎপরতা শুরু হয়। কিন্তু সেই তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এপ্রিল মাসে গণটিকা দেওয়া শুরু হয়। মে মাসে শেষ হয় সেই টিকাদান পর্ব। কিন্তু সেই সময় ৩৯ লাখের বেশি শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে। ফলে সংক্রমণ কমেনি। টিকাদানের এত দিন পরও হামে শিশুর মৃত্যু এবং প্রতিদিন শত শত শিশুর সংক্রমণ এর আগে দেখা যায়নি বলেও বিশ্লষকেরা মনে করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৪১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১৪ রোগী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ জন ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।