
সরকারী অর্থ আত্মসাৎ, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত বারবার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ নানান অভিযোগে পিরোজপুরের জিয়ানগর থানার সার্টিফিকেট পেশকার মোঃ আজগর আলীকে চাকরী থেকে অপসারন করা হয়েছে।
সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪ এর (৩) উপবিধি (১) এর (গ) অনুযায়ী গুরুদন্ড বিবেচনায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো : খলিল আহমেদের সুপারিশে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক তাকে চাকরী থেকে অপনারন করেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই অভিযোগে এর আগেও বেশ কয়েক জন সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীতে চারকী থেকে অপসারন করাসহ বিভিন্ন ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বরিশাল বিভাগের সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। বিভাগীয় কমিশনারের এমন তৎপরতায় বিভাগ জুরে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অফিস করার প্রবনতা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রে শৃংঙ্খলা ফিরে আসে বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পিরোজপুরের জিয়ানগর থানার সার্টিফিকেট পেশকার মোঃ আজগর আলীর বিরুদ্ধে চান্দিনা ভিটির লীজ মানি বাবদ নগদ নগদ টাকা গ্রহণ করে ডিসিআর প্রদান না করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ২০১৯ সালে এ নিয়ে বিভাগীয় মামলা হলে আত্মপক্ষ স্বীকার করেন মো : আজগর আলী। এছাড়া কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে তিনি একাধারে ২১ (একুশ) দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং অসুস্থতা শেষে কোন প্রকার ডাক্তারি সনদপত্র প্রদান করেন নি যা তিনি তদন্তে স্বীকার করেছেন। এছাড়া চান্দিনা ভিটির ডিসিআর বাবদ আদায়কৃত তিনলক্ষ ছত্রিশ হাজার তিনশত টাকা সরকারী কোষাগাড়ে জমা দিতে বলা হলেও যথাসময়ে তিনি তা জমা দেননি। এ কারনে গত ২৭ জুলাই একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগের সত্যতা মেলোয় বিভাগীয় কমিশনার মো : খলিল আহমেদ সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪ এর (৩) উপবিধি (১) এর (গ) অনুযায়ী গুরুদন্ড বিবেচনায় তাকে চাকুরী থেকে অপসারনের সুপারিশ করেন। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক অভিযুক্ত সার্টিফিকেট পেশকার মোঃ আজগর আলীকে চাকরী থেকে অপসারন করেন।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো : খলিল আহমেদ বলেন, দূনীতি ও অনিয়ম করে কেউ ছাড় পাবে না। যারা অনিয়ম ও অন্যায়ের সাথে যুক্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনয়ি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।