
কম্বোডিয়ায় দালালের ফাঁদে পড়ে বিদুৎ স্পৃষ্টে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রেমিট্যান্স যোদ্ধা আসিফ মারা গেছেন।
বুধবার সকালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসিফের বাবা আলী হোসেন মোল্লা। কম্বোডিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
মৃত আসিফ খান (২৮) চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কর্চাডাঙ্গা গ্রামের লাইনপাড়ার আলী হোসেন মোল্লার ছেলে।
জানা যায়, সংসারের দৈন্যদশা লাঘবে, মা-বাবার মুখে একটু হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ছয়-সাত মাস আগে দেশ ছেড়েছিলেন জীবননগর উপজেলার কর্চাডাঙ্গা লাইনপাড়ার ২৮ বছর বয়সী যুবক আসিফ খান।
সেই স্বপ্ন আজ হাজার মাইল দূরের প্রবাসে লাশ হয়ে ফিরছে। কম্বোডিয়ার এক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে ৯ দিনের লড়াই শেষে হার মেনেছেন তিনি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোটা গ্রাম। শেষবারের মতো ছেলের নিথর মুখখানা এক নজর দেখার আকুল প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন অসহায় বাবা-মা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় দালাল খলিলের সহযোগী আদম ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের প্রতিশ্রুতিতে ভালো কাজের স্বপ্ন দেখে বিদেশ যান আসিফ। কথা ছিল মরক্কো পাঠানো হবে। শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয় কম্বোডিয়ায়। যে কাজের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও মেলেনি। প্রবাসজীবনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় কর্মস্থলে ইলেকট্রনিক্সের কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ৯ দিনের চিকিৎসাও তাকে বাঁচাতে পারেনি।
ছেলের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছানোর পর থেকেই যেন থমকে গেছে গোটা পরিবার। বাবা আলী মোল্লা আর মা আছিয়া বেগম- দুজনেই সন্তানশোকে পাথর হয়ে পথ চেয়ে বসে আছেন। ছেলের লাশ দেশে ফেরাতে ইতোমধ্যে ঢাকায় ছুটে গিয়ে যাবতীয় সরকারি কাগজপত্রের কাজও সেরে ফেলেছেন বাবা। লাশ ফেরানোর আশ্বাস মিললেও দিনের পর দিন পার হয়ে যাচ্ছে, এখনও দেশের মাটি স্পর্শ করেনি আসিফের মরদেহ।
অশ্রুসিক্ত চোখে সন্তানহারা মা আছিয়া বেগমের আকুতি, আমাদের ছেলে তো আর কোনোদিন বেঁচে ফিরবে না, আল্লাহ আমাদের সেই সুখ দেননি। কিন্তু শেষবারের মতো কি আমরা আমাদের বাবাটার মুখটা একটু দেখতে পাব না? সরকারের কাছে আমাদের একটাই মিনতি-আমার ছেলের লাশটা যেন দেশে এনে দেওয়া হয়।
সন্তানের নিথর মুখ একটিবার দেখার আশায় প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কাছে হাত জোড় করে আবেদন জানিয়েছেন এই অসহায় দম্পতি। পরিবারের একটাই প্রত্যাশা- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সদয় হস্তক্ষেপে দ্রুতই দেশে ফিরুক আসিফের মরদেহ, যেন শেষবারের মতো ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন এই বাবা-মা।