
চাঁদপুরে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং শহরের মুনসেফপাড়ায় অবস্থিত শ্রীশ্রী মহাপ্রভু নীলাচল মন্দির বন্ধের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখা। সংগঠনটির দাবি, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সোমবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি তুলে ধরেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের নেতারা।
স্মারকলিপিতে হেফাজতে ইসলাম উল্লেখ করে, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। তবে ইসকনের (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক তৎপরতা এবং দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে দাবি সংগঠনটির।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইন। সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি নূরে আলমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান ও মাওলানা মনিরুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক হাফেজ আবুল হাসানাত, জেলা প্রচার সম্পাদক হাফেজ কারী রশিদ আহমদ, শহর শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।
বক্তারা বলেন, চাঁদপুরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে তাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইসকনের বিতর্কিত ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংগঠনটির কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানান বক্তারা।
তারা আরও বলেন, শহরের মুনসেফপাড়ায় অবস্থিত শ্রীশ্রী মহাপ্রভু নীলাচল মন্দিরের কার্যক্রম ও অবস্থানের পাশাপাশি এর অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়গুলোও যাচাই করা প্রয়োজন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
২০২৪ সালে ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রসঙ্গও মানববন্ধনে তুলে ধরেন বক্তারা। তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় সংগঠনের কর্মকাণ্ডের আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের আইন, সংবিধান কিংবা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। মানববন্ধনে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।