
অতিরিক্ত বিদ্যুত বিল আসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে গালিগালাজের ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক সিফাত আব্দুল্লাহর (২৫) জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন আদালত-৫ এর বিচারক রাকিবুল হাসানের আদালতে সোমবার দুপুরে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন।
সিফাত আব্দুল্লাহ্ (২৫) গাজীপুর মহানগরীর (৩৮ নম্বর ওয়ার্ড) টিনের মসজিদ এলাকার সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
সিফাতের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “সোমবার সকালে সিফাত আব্দুল্লাহর জামিনের জন্য গাজীপুর মেট্টোপলিটন আদালত-৫ আবেদন করা হয়। যথেষ্ট ভাল শুনানি শেষে রাষ্ট্র পক্ষের বিরোধীতায় সিফাত আব্দুল্লাহর জামিন নামঞ্জুর হয়। এখন আমরা সেশন কোর্টে যাব।”
মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত সিফাত ফ্যাসিবাদের দোসর। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। আজ তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিন চায়, তবে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।”
তিনি বলেন, তিনি (সিফাত) পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা হিসেবেই কাজ করেছেন। তিনি ৫ আগস্ট এর আগে থেকেই ফ্যাসিস্টদের হয়ে কাজ করেছেন, তা এখন অব্যাহত রেখেছেন।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে ফেসবুকে গালিগালাজ ও কটুক্তির জেরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার পর গ্রেপ্তার হওয়া যুবক সিফাত আব্দুল্লাহকে (২৫) ৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠায় আদালত। বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার তিনি ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে।
ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে চার হাজার টাকা এবং আগের মাসে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার দাবি, এই বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তাকে আটক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার গ্রেপ্তার করে আদালত পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।