
বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের আট বছর বয়সি নাতি গুরুতর আহত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের এরুলিয়া বিমানবন্দরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বগুড়া শহরের আটাপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী বাবুল হাসান (৫৫) এবং তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৭)। দুর্ঘটনায় আহত নাতি জুলকার নাঈন (৮) নিহত বাবুল হাসানের বড় ছেলে রেজাউল করিম রেজার সন্তান।
জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বাবুল হাসান তার স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে কাহালু উপজেলায় বড় ছেলের বাসায় দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে এরুলিয়া বিমানবন্দরের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুল হাসান মারা যান। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিন বিবিকে ও শিশু জুলকার নাঈনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেসমিন বিবি মারা যান। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ মিরাজুল মন্ডল বলেন, মোটরসাইকেল চালক তার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য গাড়িটি রাস্তার একদম বাঁয়ে নামিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেট কারটি সরাসরি মোটরসাইকেলটিকে আঘাত করে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই রাস্তায় প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পরেই রাস্তায় গাড়ি নামানোর অনুমতি দেওয়া উচিত।
বগুড়া সদর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পেয়ে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার ভোরে একই সড়কের এরুলিয়া এলাকায় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে। একই এলাকা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।