• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পরকীয়ার অপবাদে নারী-পুরুষকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন বরিশালে বিদ্যুতায়িত হয়ে দগ্ধ মানসিক ভারসাম্যহীন সবুজের মৃত্যু ঢাকা ওয়াসার নতুন এমডি নিয়োগ, এক সচিবকে প্রত্যাহার স্বামীর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির মামলায় স্ত্রী কারাগারে নতুন দায়িত্ব পেলেন ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার চীনের তৈরি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বরিশালে বাস চলাচল স্বাভাবিক, অবরোধে চরম ভোগান্তি নিখোঁজের চার দিন পর মাটি খুঁড়ে কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার রংপুরে ৪ হত্যা, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ভয়েই বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ’

আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের মিয়ানমার অংশে আরাকান আর্মির (এএ) পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মো. সাইফুল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীন টার্গুপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৫২ সংলগ্ন মিয়ানমার অংশে এ বিস্ফোরণে সাইফুলের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত সাইফুল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনছড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. সাবের।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার-৫২ সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৩০০ মিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন ডুইল্যাঝিরি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে।

সাইফুল ওই এলাকায় বাঁশ কাটতে গেলে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ওপর তার পা পড়ে। এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে থাকেন।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির প্রাথমিক তথ্যমতে, বাঁশ কাটার উদ্দেশ্যে সাইফুল মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। বাঁশ কাটার সময় অসাবধানতাবশত ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়লে বিস্ফোরণ ঘটে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমাত জাহান ইতু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় অহেতুক ঘোরাফেরা না করার জন্য স্থানীয়দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সীমান্তের ওপারে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত পিলার ৫১ থেকে ৫৪’র আশপাশে বসবাসকারী কিছু বাংলাদেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে নিয়মিত বাঁশ কাটতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

সীমান্তের দুর্গম এলাকার এসব বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার প্রয়োজনে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে বাঁশসহ বিভিন্ন বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে আসছেন। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত এবং বিভিন্ন এলাকায় ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখায় সীমান্তবর্তী মানুষের চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে সাইফুলের নিহত হওয়ার ঘটনা সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তাঝুঁকি নতুন করে সামনে এনেছে। জীবিকার তাগিদে যাতে বাংলাদেশি নাগরিকরা সীমান্তের ওপারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ না করেন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

সাইফুল নিহতের ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...