
নওগাঁয় জমি লিখে না দেওয়ায় ছেলেদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাবা-মা।
সোমবার সন্ধ্যায় শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন বাবা আলাউদ্দিন (৭০) ও মা রেখা বেগম (৫৫)।
এ বিষয়ে জেলার মহাদেবপুর থানায় এ দিন দুপুরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা। ভুক্তভোগীদের গ্রামের বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের খোশালবাড়ি গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন- তার মোট সম্পত্তি প্রায় ৫০ বিঘা। দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলেমেয়ে। বড় ছেলে ফিরোজ মামুন (৪৫) ও ছোট ছেলে সুরুজ মাহবুব (৪০) এবং ছোট মেয়ে জান্নাতুন ফেরদৌস (৩০)। ২০২১ সালে দুই ছেলেকে ৮ বিঘা করে ১৬ বিঘা, মেয়েকে ৫ বিঘা এবং ছেলেদের দুই সন্তানকে ১০ বিঘা করে ২০ বিঘাসহ মোট ৪১ বিঘা জমি লিখে দেওয়া হয়।
মেয়েকে জমি লিখে দেওয়ার পর থেকেই তার অংশ ছেলেরা জোরপূর্বক জবরদখল করে ভোগদখল করছে। মেয়ের অংশ বুঝিয়ে দিতে বলা হলে ছেলেরা বিভিন্ন টালবাহানা করে। এছাড়া নাতিদের কেন জমি লিখে দিয়েছি এ নিয়ে ছেলেদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছেলেদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে গালিগালাজ করাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে মেয়ে তার জমির অংশ বুঝিয়ে নিতে চাইলে ছেলেরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় বড় ছেলে ফিরোজ মামুনের নির্দেশে ছোট ছেলে সুরুজ মাহবুব ঝাড়ু নিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ সময় আমার চিৎকারে স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। আমার বাকি যেটুকু জমি আছে সেটা তারা লিখে নিতে চাপ দিচ্ছে।
মা রেখা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমি বাবার বাড়ি থেকে ৫ বিঘা জমি পেয়েছি। ওই জমিও ছেলেরা লিখে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে। জমি না দেওয়ায় কয়েকবার আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী এখন দুই ছেলের ভয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা জীবনের নিরাপত্তাসহ এর সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মেয়ে জান্নাতুন ফেরদৌস ও মেয়ের স্বামী আসিফ ইকবাল।
এ বিষয়ে ছোট ছেলে সুরুজ মাহবুব বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং বাবা-মা ও বোন মিলে আমাকে মারধর করেছে। ২০২১ সালে বাবা আমাদের নামে যে জমি লিখে দিয়েছেন সেখানেও প্রতারণা করেছেন। দলিলে যে দাগ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে ওই সব জমির মালিকই বাবা না। তাহলে কেন তিনি এমন প্রতারণা করলেন। জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো আমরা দুই ভাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে।
মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ হাতে পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।