
শরৎকাল শেষ না হতেই উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে আগাম শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে। ভোরে হালকা কুয়াশা ও ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দুর সঙ্গে হিমেল বাতাসে বাড়ছে ঠান্ডার অনুভূতি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে এক ডিগ্রি।
পঞ্চগড় শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা কুয়াশা পড়ছে। খোলা মাঠ, সড়ক ও ফসলের জমিতে কুয়াশার আস্তরণ দেখা যাচ্ছে। সকালে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করলেও কুয়াশার ঘনত্ব এখনো ততটা বেশি নয়।
মোটরসাইকেলচালক রাজিব হাসান জানান, ভোরে বের হলে আগের চেয়ে ঠান্ডা বেশি লাগছে এবং রাস্তায় কুয়াশাও চোখে পড়ছে। তবে এখনো তা ঘন কুয়াশায় রূপ নেয়নি।
হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের আগমন ঘটে কিছুটা আগে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয় এবং শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডও প্রায়ই এ জেলা থেকে আসে।
এদিকে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকেরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যাই বেশি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, ‘তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে শীতের অনুভূতি বাড়বে।’