• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

পাসপোর্টের পাতায় যুক্ত করা হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।

রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।

দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’-কে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...