• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাবার লাশ পড়ে আছে উঠানে, সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ চোরাই বলে শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই, ঘুষও নিলেন ১৭ হাজার ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তি ও পূজার সামগ্রী চুরি, আটক ৪ বরিশালে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, ঘাতক স্বামী ও তার ছোট ভাই আটক স্ত্রীর লাশ বাড়িতে রেখে মসজিদে গেলেন আজান দিতে, নামাজরত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের মৃত্যু সরকার বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউ সবার আগে নেবে: হাসনাত ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র, আসামির যাবজ্জীবন ইসলামী আন্দোলনের নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, সব পদ স্থগিত

ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র, আসামির যাবজ্জীবন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ওই নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে। ত‌বে আসামি জা‌মি‌নে বের হবার পর থে‌কে পলাতক র‌য়ে‌ছে।

আদালতের রায় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. রেখা খাতুন একজন তালাকপ্রাপ্ত নারী। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় ফারুক হোসেন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন নিজের এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান ফারুক। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে প্রায় দুই মাস ওই বাসায় এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় একটি বাসায় রেখে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন অভিযুক্ত।

একপর্যায়ে রেখা খাতুন অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিয়ের কাগজপত্র চাইলে ফারুক বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন রেখা। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

মামলার তদন্তে রেখা খাতুনের অন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি মেডিকেল পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। পরে তিনি রাফিউল হোসেন নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তদন্ত শেষে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রায়ে আদালত অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, অর্থদণ্ডের টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগী নারীকে দেয়া হবে। দণ্ডিত ব্যক্তির বর্তমান সম্পদ থেকে তা আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে আদায় করা যাবে।

এছাড়া রায়ে রাফিউল হোসেনকে ফারুক হোসেনের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাবার কাছ থেকে প্রাপ্য সব আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। পরে সরকার দণ্ডিত ব্যক্তির কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে। সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামি গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করলে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা কার্যকর করা হবে।

মামলার আইনজীবী জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, আসামি ফারুক হো‌সেন‌কে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ওই নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রা‌য়ে বাদী পক্ষ সন্তুষ্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...