• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

‘ডিজিটাল বিয়ে-তালাক নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদসহ বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধ সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দেশের ১০ জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় থাকা উপজেলাগুলো হলো–গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সদর।

প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে বিবাহের ক্ষেত্রে বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে। এর ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

এ ছাড়া বিবাহ ও তালাকের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ এবং দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সঙ্গে (এপিআই) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে আইন ও বিচার বিভাগের প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব সই করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...