
যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটক করেছে মনিরামপুর থানা পুলিশ।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল হাসান পরীক্ষার খাতায় নম্বর বেশি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কয়েক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার কথায় রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিরও অভিযোগ রয়েছে। লোকলজ্জা ও হুমকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে পারেনি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রী স্বীকার করে। এ বিষয়টি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
এমতাবস্থায় দীর্ঘদিনেও অভিযোগের সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ফলে সোমবার সকালে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ক্লাস বর্জন শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণঅনশনে বসে।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ছাত্রীদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের যাবতীয় ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, থানার ওসি আবু সাইদ।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযুক্ত শিক্ষকের আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।