• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাবার লাশ পড়ে আছে উঠানে, সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ চোরাই বলে শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই, ঘুষও নিলেন ১৭ হাজার ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল শিক্ষিকা নিহত মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তি ও পূজার সামগ্রী চুরি, আটক ৪ বরিশালে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, ঘাতক স্বামী ও তার ছোট ভাই আটক স্ত্রীর লাশ বাড়িতে রেখে মসজিদে গেলেন আজান দিতে, নামাজরত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের মৃত্যু সরকার বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউ সবার আগে নেবে: হাসনাত ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র, আসামির যাবজ্জীবন ইসলামী আন্দোলনের নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, সব পদ স্থগিত

চোরাই বলে শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই, ঘুষও নিলেন ১৭ হাজার

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

চট্টগ্রাম থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করতে গিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কেনা এক লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল নিয়ে গেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটু। উপরন্তু ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি খোঁজ করতে গিয়ে ট্র্যাকিং খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের বাড়িতে গিয়ে তার কাছ থেকে তার কেনা মোবাইল নিয়ে যান এসআই মেহেদী হাসান টিটু। এ সময় তার কাছে থেকে ট্র্যাকিং খরচের কথা বলে ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নেন তিনি।

আবুল হাসনাত আয়ান তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিএসসি (সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

আয়ান বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাসের দেশের বৃহত্তম শপিং সেন্টার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৪, ব্লক-ডি, দোকান নং-৪ডি/০১৬এ এপেল ‘হট’ দোকান নামে থেকে ইউসেবল ‘আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স’ এক লাখ ৫ হাজার টাকায় ক্রয় করি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান টিটু আমার বাসায় গিয়ে বলে আমি যে মোবাইলটি কিনে নিয়ে আনছি সেটা চোরাই ফোন। এর আগের দিন তিনি আমাকে ফোন করে আমার বিস্তারিত তথ্য নেয়। বাসায় গিয়ে এসআই আমাকে জানায় চট্টগ্রাম থেকে এক নারীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াইয়া মুঠোফোন, টাকা এবং স্বার্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়ে যায়। এ সময় আমি এসআইকে আমার ক্রয় করা ক্যাশ ম্যামো, মোবাইলের বক্স দেখাই এবং ওনার সমানে ওই দোকানে ফোন দিয়ে নিশ্চিত করি আমি মোবাইলটি কিনেছি। তখন তিনি আমাকে বলেন ফোন যেহেতু আপনার কাছে পেয়েছি তাহলে সমস্যাটা আপনারই। এ সময় আমার মামা আমার সাথে ছিল। তখন মামা এসআইকে বলেন যে বিক্রি করছে সেখানে অপানারা অভিযান চালাবেন। আয়ান মোবাইলটি কিনে নিয়ে আসছে এবং তার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। তাছাড়া আপনার সামনেই সে ওই দোকোনের বিক্রেতার সাথে কথা বলে ফোন কেনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে ফোনসহ আমাকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। পরে আমার কাছ থেকে লোকেশন ট্র্যাকিং করার কথা বলে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমি বাবার টাকা দিয়ে ‘আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স’ কিনেছি। আমার সমস্ত ডকুমেন্ট রয়েছে। তাছাড়া দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ তদন্ত করলেও প্রমাণ পাবে আমি ওই দোকান থেকে মোবাইল কিনেছি। যেখানে আমি বৈধভাবে মোবাইল কিনে নিয়ে আসলাম সেখানে আমার টাকার কথা চিন্তা না করে আমার কেনা মোবাইল নিয়ে গেল এসআই মেহেদী হাসান টিটু। উপরন্তু আমার কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে গেল। এ সময় আমার কাছ থেকে মোবাইল নেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করে রাখতে বলি এসআইকে এবং তিনি তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি আমাকে ভিডিও সংরক্ষণ করার জন্য দেয়নি। তাহলে আমি যে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম এটা কি পুলিশ দেখবে না বা আমার টাকা উদ্ধারে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে না? আমিও তো এখন ক্ষতিগ্রস্ত। সাথে আমার আরও ১৭ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হলো এসআইকে।

এ বিষয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তার পরিচিত লোকজন বাসায় ঢুকে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। পরে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং একটি আইফোন নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় নারী একটি সিআর মামলা দায়ের করে। ওই মামলার বিষয়ে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি থেকে আমাকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মোবাইলটি উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী দেশের বৃহত্তম শপিং সেন্টার যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকান থেকে মোবাইল কিনে নিয়ে আসলো। সেও তো বৈধ ক্রেতা। শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সেটা কীভাবে উদ্ধার করে দেবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই শ্রীপুরের স্থানীয় এক সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বলেন তিনি আমাকে খুব ভালোভাবে চেনেন এবং স্নেহ করেন। এ সময় তিনি সরকারি দলের গাজীপুর জেলা পর্যায়ের শীর্ষ এক নেতার পরিচয় দিয়ে ওনার ভাগিনা পরিচয় দেন এ সাংবাদিককে।

এমনিতেই সে অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তাহলে বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কীভাবে ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন এমন প্রশ্নে তিনি এ সাংবাদিককে তার সাথে দেখা করে চা পানের দাওয়াত দেন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, এসআই ১৭ হাজার টাকা কেন নেবে? মোবাইল ট্র্যাকিং খরচের কথা বলে টাকা নিতে পারে না এবং সঠিক নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...