• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব সাংবাদিকদের একটি অংশকে ‘গুপ্ত শিবির’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, তাদের ওপর হামলা নয়, বরং প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে, হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব নিজের বক্তব্যে বলেন, কোনো নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জিয়া হলের জিএস আরিফুলকে ধরতে জিয়া হলে গেলে সংক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর যেসব সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানা হামলা করতে এসেছে, তাদের প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন। এ ঘটনায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান হলের ফটকের সামনে আসেন। তাদের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্র আড়াল করে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে দৈনিক সমকালের প্রতিনিধির ওপর লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিও হামলার শিকার হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টর কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে ফটক বন্ধ করে দেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। আহত সহকর্মীদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অন্য সাংবাদিকদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনার পর রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি শিবিরের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকরা আমাদের ভাই, আমাদের বন্ধু এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক ও সত্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। রাবি ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সাংবাদিক ভাইয়ের গায়ে হাত তুলবে না, রাবি ছাত্রদল ও রাবি সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে শিবিরের অপচেষ্টার আমরা নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে আজকের ঘটনায় কোনো সাংবাদিক ভাই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে থাকলে, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...