
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও হামলা-মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
ছাত্রশিবিরের নেতাদের অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট বিএম কলেজের মুসলিম হল ও ডিগ্রি হলে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় কয়েকজনকে মারধর করে হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের খোঁজা এবং হলের কক্ষ দখলের চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এসব ঘটনার বিষয়ে কলেজ প্রশাসনকে অবহিত করতে বৃহস্পতিবার ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি মো. নাহিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। সেখানে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও আবাসিক হলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন শিবির নেতারা।Politics
বিএম কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. সাহেদ খান বলেন, ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে তাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া, কলার ধরে টেনে নেওয়া এবং মারধর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। ঘটনার সময় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে আসস্থ করেন।
তিনি আরও বলেন, এর আগে কলেজের হলগুলোতে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কক্ষ ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিএম কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. নাহিদ আল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতি করে আসছেন। গত ৪ আগস্টের ঘটনার পরও সংঘাতে না গিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারও একই উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কক্ষ ছাড়তে বাধ্য করা এবং তাদের মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।