
সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী এহসান মাহমুদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের দিন থেকে এক বছরের জন্য তিনি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, এ সময় তাকে অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা যাবে না। একই সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্কও রাখা যাবে না। জনস্বার্থে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দায়িত্ব পাওয়ার পর এহসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ, এর প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন মহাপরিচালক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া গণতন্ত্র, সমঅধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই তিনি কাজ করতে চান।
সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, এ নিয়ে গবেষণা ও চর্চার পাশাপাশি জাদুঘরটিকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া এহসান মাহমুদের পৈতৃক বাড়ি বরিশালের মুলাদীতে। স্নাতক ডিগ্রিধারী এই সাংবাদিক দীর্ঘ পেশাজীবনে দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন ও নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও সক্রিয় এহসান মাহমুদ। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘একাত্তরের লালমিয়া’, ‘কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল’ এবং কবিতার বই ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’। এছাড়া প্রবন্ধ ও রাজনীতি বিষয়েও তার বিভিন্ন লেখা ও প্রকাশনা রয়েছে।