• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

ক্লিনিকে না যাওয়ায় নারীর মাথা ফাটাল দালালরা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে কানিজা আফরোজ (৪০) নামে এক নারী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন কথিত দালাল তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং চিকিৎসকরা তিনটি সেলাই দেন। বুধবার দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে তথ্য জানতে হাসপাতালের বহির্বিভাগে যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

কানিজার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। তিনি আগে হাসপাতালে পরীক্ষা হয় কি না, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তাঁকে জোর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন প্লাস্টিকের পাইপ ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গেলে মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।

কানিজা আফরোজ বলেন, “আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি।”

কানিজার অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন রোগী ও স্বজনকে নানা ধরনের কথা বলে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কানিজা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন, হাসপাতালে কোনো কর্মচারী উপস্থিত না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহত নারী আইনি ব্যবস্থা নিলে তাঁকে সহযোগিতা করা হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসেন বলেন, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে পুলিশের কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...