• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেল দি বরিশাল ইসলামিয়া আরবান সমবায় সমিতি ফরিদপুরে ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নার্সিংহোমের বাথরুমে প্রসব, পরে সন্তান জন্ম দিয়ে জানালা দিয়ে ফেলে দিলেন ১৬ বছরের কিশোরী স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা সেলফি তুলতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউপিতে ভোট, ৬ বছরেই এনআইডি নিবন্ধন: ইসি সচিব যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মিজানুর, সদস্য সচিব শরিফুল ইত্যাদির শুটিংয়ে দুই শতাধিক মোবাইল চুরির অভিযোগ পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

চালের বাজারে অস্বস্তি, কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৮ টাকা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান চাল উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র বগুড়ার শেরপুরসহ পুরো অঞ্চলে চালের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি ও সরু দুই ধরনের ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা চালের বাজারে। মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজারের হাতবদলে কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের, যা সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচ মেটাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

শেরপুরের চাল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে মাঝারি জাতের ধান মণপ্রতি ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় এবং সরু জাতের ধান ১৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ধানের দাম বাড়ার পাশাপাশি চালের বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। এক মাস আগে ৪৫-৪৬ টাকা কেজির মাঝারি চাল বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সরু কাটারি চালের দাম মিল পর্যায়ে ৭৮-৭৯ টাকা এবং খুচরা বাজারে পৌঁছে ৮৪-৮৫ টাকায় ঠেকেছে। ধান কেনার পর্যায় থেকেই মিলমালিকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়। ফলে চালের বাজারে দামের চাপ তৈরি হয়েছে।

শেরপুরের পাশাপাশি বগুড়া শহরের বাজারেও চালের দামে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। বগুড়া শহরের বাজারে রঞ্জিত চাল ৫০-৫২ টাকা, আটাশ চাল ৫৪-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা এবং কাটারি চাল ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ১৫০-১৬০ টাকায় নেমেছে।

মিলমালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু ধানের দাম নয়; বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও কেজিতে বেড়েছে। মিলমালিক আকরাম হোসেন জানান, উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না। তবে খুচরা ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, পরিবহন, লোড-আনলোড ও দোকান পরিচালনার খরচ বাদ দিয়ে তাদেরও মুনাফা রাখতে হয়। অপরদিকে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)-এর সম্পাদক কেজিএম ফারুক মনে করেন, কেবল খুচরা বাজারে নজরদারি না করে ধান কেনা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের সঠিক ব্যবধান এবং অযৌক্তিক মুনাফার বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চালের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। নির্মাণশ্রমিক জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক ও সবুজ মিয়া জানান, আয় বাড়েনি অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় এই চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঋণ ও ধারদেনা করে তাদের সংসার চালাতে হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, চালের বাজারের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের টিম নিয়মিত তদারকি করছে। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...