
পাবনার ঈশ্বরদীর মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসা। এ ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়েশা খাতুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে পরিচালনা কমিটি বৈঠক করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে শিক্ষক মুসা বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষকরা তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। তাদের বাধার মুখে তিনি বিদ্যালয়ের ফটক থেকে বাড়ি ফিরে যান।
মোশারফ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক। বিয়ে করার পাঁচদিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোশারফ হোসেন মুসা খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ বছর যাবৎ কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে। অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর নাম রিমি খাতুন। তার বাড়ি সাহাপুর ইউনিয়নে।
পরিচালনা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি সম্পর্কে জেনে ও তদন্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক মোশারফ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমি খাতুনের সঙ্গে প্রেমে জড়ান। গত ৩০ অক্টোবর হঠাৎ ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং সেখানে অবস্থান নেন। সেখানে দুই থেকে তিনদিন অবস্থান করেন বলেও স্থানীয়রা জানায়। এ অবস্থায় শিক্ষক মুসা ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের চাপে ওইদিন রাতেই তাদের বিয়ে হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ে, অভিভাবক মহল ও স্থানীয়দের মাঝে সমালোচনা শুরু হয়। এরপরও শিক্ষক মুসা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান।
শিক্ষক মোশারফ হোসেন সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছাত্রী রিমি খাতুনকে বিয়ে করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে ছাত্রী রিমি খাতুন তার বাড়িতে দুইদিন ধরে অবস্থান করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘অভিভাবকেরা ভরসা করে বিদ্যালয়ে তার মেয়েকে পাঠান। শিক্ষকের কাছ থেকে এমন ঘটনা দুঃখজনক।’
মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার এ বিষয়ে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এতে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট হয়েছে। বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক হয়ে একই বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে বিয়ে করায় নৈতিক স্খলন ঘটিয়েছেন। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ’বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষক আয়েশা খাতুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষক মোশারফ হোসেন দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’