
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ইমু ও যুবদলকর্মী মো. শামীমকে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কানচুর হাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার ট্রলারে করে মাদক আসার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওসি মো. আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ইমুর পরিচালিত মেসার্স আরিয়ান ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির কার্যালয় থেকে ৭ পিস ইয়াবা ও এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাশের একটি কক্ষ থেকে একটি দেশীয় রামদা উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ওই সময় ইমুকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় ইমুর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে চাঁদাবাজি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে কানচুর হাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের সময় এনামুল হক ইমু ও মো. শামীম মাদক সেবন করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাথরঘাটা মৎস্য ঘাটকে কেন্দ্র করে মাদক সরবরাহের কার্যক্রম চলছে। তারা মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, বিএনপির কেউ চাঁদাবাজি বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এনামুল হক ইমুর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন বলেও জানান। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম বলেন, বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা ও একটি দেশীয় রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। চাঁদাবাজি মামলায় এনামুল হক ইমুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, পাথরঘাটা থানার চাঁদাবাজি মামলায় এনামুল হক ইমুকে ১ ও ৩ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।