• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

সংকট নিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি নন কৃষি কর্মকর্তা, সাংবাদিকদের হুমকি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় আমন মৌসুমে ধান রোপণের কাজ শেষের দিকে। এরই মধ্যে সারের সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় অনেক কৃষককে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিশেষ করে ডিএপি সার বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার কোথাও কোথাও ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের মধ্যে সার সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও করছেন কৃষকরা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সার সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে আসমা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার বারহাট্টা সর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মহিম উদ্দিনের গোডাউনে রাখা হয়েছে কেন—এ বিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান পত্রিকার বারহাট্টা প্রতিনিধি।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, আসমা ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার সেলিমের কাছে টাকা না থাকায় চলতি মাসের সার মহিম উদ্দিন কিনেছেন।

পরে জানতে চাওয়া হয়, আসমা ইউনিয়নের কৃষকরা যদি নিজ ইউনিয়নে সার না পেয়ে বারহাট্টা সদর ইউনিয়নে এসে যানবাহন ভাড়া করে সার কিনতে বাধ্য হন, তাহলে এতে কৃষকদের বাড়তি ভোগান্তি ও খরচের বিষয়টি কীভাবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক ইউনিয়নের ডিলারের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়নের ডিলার কিনতে পারেন কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে চান তিনি।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা। এ সংক্রান্ত বক্তব্যের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

এ সময় কৃষি অফিসের কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান কৃষি কর্মকর্তার সামনে সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহ করতে আসতে পারবেন না বলে নিষেধ করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকের উপর চড়াও হন এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।

পরে বিষয়টি নিয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এক ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়নের ডিলার কেনার বিষয় এবং এতে কৃষকদের ভোগান্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি কৃষি বিভাগের আওতাধীন। এ বিষয়ে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন।

সাংবাদিকরা কৃষি অফিসে তথ্য জানতে গিয়ে খারাপ আচরণের শিকার হওয়ার বিষয়টি ইউএনওকে জানালে তিনি প্রতিবেদককে আগামী রোববার অফিসে এসে এ বিষয়ে কথা বলতে বলেন।

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, আমন মৌসুমে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়া এবং বেশি দামে সার কিনতে হওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থে সার সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সার সংকট, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দের সার অন্যত্র রাখা এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপ চান ভুক্তভোগী কৃষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...