
ভোলার তজুমদ্দিনের বিচ্ছিন্ন চর মোজাম্মেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা শাহজাহানের বিরুদ্ধে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মাছ ব্যবসায়ী মো. মনজুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। হামলায় তাঁর ডান হাত ভেঙে যাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় শাহজাহানসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে তজুমদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মনজু।
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে তজুমদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধা বাজারের উত্তর পাশে হারুন গাজীর দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা হয়েছে, শাহজাহানের নির্দেশে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মনজুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মনজু (৪৫) অভিযোগ করেন, চর মোজাম্মেলে মাছের আড়ৎ ও জেনারেটরের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর ডান হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
মনজুর অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর ক্যাশ বাক্স থেকে মাছ বিক্রির ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্যাশ বাক্সটি দোকানের বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মনজু আরও অভিযোগ করেন, শাহজাহান নিজেকে স্পিকারের লোক পরিচয় দিয়ে চরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, স্পিকারের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, অর্থ আদায় এবং জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, চর মোজাম্মেলে কৃষক, জেলে ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার পর স্থানীয়রা মনজুকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলায় শাহজাহান, আলমগীর, আব্বাস, আলমগীর, সুমন, সোহাগ, বিটু, জাকির, শেখ ফরিদ ও পারভেজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা শাহজাহান। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি চক্র তাঁকে হেয় করতে এসব অভিযোগ তুলেছে। তাঁর দাবি, চরের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন।
ভোলা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম ভিপি বলেন, তজুমদ্দিন উপজেলায় যুবদলের কোনো পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত কমিটি নেই। এরপরও কেউ যুবদলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, অপকর্ম বা অনিয়মে জড়িত থাকলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না বলেও জানান তিনি।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চরাঞ্চলসহ কোথাও চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা কোনো ধরনের অপকর্মের সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, চর মোজাম্মেলে মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মনজুর ওপর হামলার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য থানায় আসার পর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।