• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
প্রেমিকার বাড়ি থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, মা-মেয়ে আটক বরিশাল-ঢাকা রুটে সপ্তাহে ৭ দিন নিয়মিত ফ্লাইট চালুর দাবিতে স্মারকলিপি ভুয়া তথ্যে বাংলাদেশে অবস্থান, সন্দেহভাজন ভারতীয়ের রিমান্ড চায় ডিবি কিশোর গ্যাং লিডার ‘কুত্তা শ্রাবণ’ তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য মাদরাসা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, প্রতিদিন হবে গণনা মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যা, ২৬ আসামির চার্জ গঠনের আদেশ ১১ অক্টোবর চুরি করে পালানোর সময়, চোরাই মালামালসহ ভাই-বোন আটক জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের ভিডিও করা সেই বিউটি রাণী ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করল বাংলাদেশ, ১০৩ এনওসি বাতিল

ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু গত এক বছরেই বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। অথচ ২০২৫ সালের একই দিনে এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় ০.৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।

এক বছরের ব্যবধানের হিসাবেও পরিবর্তনটি স্পষ্ট। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে যেখানে ০.৭২ রুপি পাওয়া যেত, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ০.৭৮ রুপিতে। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

অন্য দিক থেকে হিসাব করলেও একই চিত্র পাওয়া যায়। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে একই রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। অর্থাৎ এখন এক ভারতীয় রুপি কিনতে এক বছর আগের তুলনায় ৯.৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই হিসাবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।

আর দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।

টাকার এই শক্তিশালী অবস্থানের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ টাকা থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।

তিনি বলেন, টাকার মূল্য বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্যসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় হবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ কমতে পারে।

ভারত থেকে আমদানির ক্ষেত্রে এই বিনিময় হারের পরিবর্তন স্থানীয় মুদ্রায় মোট ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন। কারণ, এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।

তবে টাকার শক্তিশালী অবস্থানের প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।

শুধু আমদানি নয়, ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থানের সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচ টাকায় হিসাব করলে কম হবে।

তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয়ের একমাত্র নির্ধারক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...