
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শান্ত পাল (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনায় জড়িত অপর আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণী চলতি বছর ময়মনসিংহের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য তিনি একটি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করছিলেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন তিনি। আত্মীয়তার সূত্রে ওই তরুণীর গ্রামের বাড়িতে শান্ত পালের যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে শান্ত পাল তার সহযোগী আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় তরুণীকে কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে ওই বাসায় তরুণীকে ধর্ষণ করেন শান্ত পাল। এরপর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ তরুণীর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান শান্ত পাল।
পরিবারের সদস্যদের তিনি জানান, খিঁচুনি উঠে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে তার কথাবার্তায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে মরদেহ ও পোশাকে রক্তের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে শান্ত পাল ঘটনার কথা স্বীকার করেন।
খবর পেয়ে ভালুকা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল করে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে নিহতের বাড়ি থেকে শান্ত পালকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল এলাকার সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি শান্ত পালকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। অপর আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহত তরুণীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।