• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

বরিশালে হস্তান্তরের আগেই খসে পড়ছে নির্মানাধীন প্রাইমারি স্কুলের ছাদের পলেস্তারা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

হস্তান্তরের আগেই নির্মাণাধীন প্রাইমারি স্কুল ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি চুইয়ে শ্রেনীকক্ষে প্রবেশ করছে। এতে ভবনের নির্মাণকাজের মান নিয়ে নানাপ্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একইসাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। ঘটনাটি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৪ নং আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তবে কাজ শেষ করে ভবনটি হস্তান্তরের আগেই ছাদের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি হাসনাত খান তরুণ ও প্রধানশিক্ষক কমল কৃষ্ণ দাস অভিযোগ করে বলেন, তাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করেছেন শ্রমিকরা। এছাড়া নিচতলার পুরোনো জানালা খুলে কক্ষে স্থাপন করে রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

প্রধান শিক্ষক কমল কৃষ্ণ দাস বলেন, নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম মেনে ও সঠিকভাবে না করায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবনের ছাদে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ভবন নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তা (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলায় ছাদ ঢালাইয়ের কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নতুনচর জাহাপুর এলাকার শামীম হোসেন ও ঠাকুরমল্লিক গ্রামের গোলাম মোর্শেদ আমার নির্দেশনা অমান্য করে, এমনকি আমাকে না জানিয়ে রাতে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন বলেন, নির্মাণকাজে কোনোধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভবনটি হস্তান্তরের আগে নির্মাণকাজের মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ও পানি চুইয়ে পড়ার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের ব্যাপারে শামীম হোসেন ও গোলাম মোর্শেদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইদুর রহমান স্বপন বলেন, স্কুলের ভবন নির্মানের ব্যাপারে কোনধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবেনা। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...