
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রেমিক আখলাকুল সাইফের ওপর অভিমান করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে নাসিমা নামে এক তরুণী।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৭টায় সিলেটের একটি হাসপাতালে নাসিমা মারা যায়। নাসিমা আক্তার (২২) শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের সাবেক ট্রাভেলার টিকেট এক্সামিনার (টিটিই) প্রয়াত নুরুল হকের ছোট মেয়ে। তার ভাই জহির রায়হান বর্তমানে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে বুকিং ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, নাসিমা তার ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানায়, আখলাকুল সাইফের সঙ্গে ৮ মাস প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিভিন্ন টালবাহানা দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে প্রেমিক আখলাকুল। সে এখন সবকিছুই অস্বীকার করছে বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানায় নিহত কলেজছাত্রী নাসিমা আক্তার। ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিহত নাসিমা উল্লেখ করে, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই নানা টালবাহানা করতে থাকে আখলাকুল।
সোমবার রাতে নাসিমা তার ফেসবুক আইডি থেকে আখলাকুল ইসলাম চৌধুরী নামে এক যুবকের সঙ্গে ৮ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেয়। এতে প্রেমিক আখলাকুল ইসলাম চৌধুরী পরিবারের আপত্তির কারণে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।৪৮ জনকে ট্যাগ করে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে নাসিমা আক্ষেপ করে লেখে, তারা নীচু জাতের এবং আখলাক কোটিপতি পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে অশালীন আচরণ করা হতো। আখলাকুল ইসলাম চৌধুরী বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন সবকিছু অস্বীকার করে ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ, ফোন নম্বর ব্লক করে রেখেছে। আখলাকুল ইসলাম চৌধুরী আরও বেশ কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় স্ট্যাটাসটিতে।
এজন্য ‘পরিবারে মুখ দেখাতে পারব না’ উল্লেখ করে নাসিমা লেখে, ‘নিজ ইচ্ছায় সুইসাইড করছি’। ফেসবুকের ওই পোস্টের শেষে আখলাকুল ইসলাম চৌধুরী ও তার মা সুরাইয়া চৌধুরীকে যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করে নাসিমা।
বিয়ের কথা বলার পর থেকেই ফেসবুকে তার আইডিকে ব্লক লিস্টে ফেলে রেখেছে আখলাকুল। এমনকি তার ফোন নাম্বারও ব্ল্যাক লিস্টে ফেলে রেখেছে।
নিহত নাসিমার ভাই জহির রায়হান জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আখলাকুল সাইফের সঙ্গে নাসিমার বন্ধুত্ব ছিল; কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক ছিল তা আগে থেকে জানা ছিল না। তিনি জানান, ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় আমার মা বোনকে ডাকাডাকি করলে সে ঘুম থেকে উঠছিল না। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে রুমে প্রবেশ করে তাকে এমন অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। এক পর্যায়ে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নিয়ে যাই। দুদিন চিকিৎসার পর ১৬ ডিসেম্বর চিকিৎসক জানান, আমার বোন অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছে। ২১ ডিসেম্বর আনুমানিক রাত ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাসিমার মৃত্যু হয়। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানতে পারি প্রেমঘটিত কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. আব্দুছ ছালেক জানান, এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।