
সন্তানের মুখে হাসি দেখতে মা কত কিছুই না করেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন, সহ্য করেন অসহনীয় কষ্ট। এবার ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি কিডনি দান করতে প্রস্তুত হয়েছেন মা হাসিনা বেগম। ছেলের সুস্থ জীবনে ফেরার আশায় প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছেন তিনি। কিন্তু মায়ের এই আত্মত্যাগের পরও থমকে আছে চিকিৎসা। কারণ, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করতে পারছে না পরিবারটি।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নুরাইনপাশা গ্রামের ২১ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলামের দুইটি কিডনি বিকল হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াই করছেন। রাজধানীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাকিবকে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। নিয়মিত এই চিকিৎসার মধ্যেই চলছে তার কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষা।
রকিবুল বলেন, প্রথমে তার শরীরের নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে বমি হয় যার সাথে রক্ত পরে। এরপড় সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসক ডা, কামরুল ইসলাম ও ডা. তানভির রহমানের চিকিৎসা নেন। এক পর্যায়ে তারা জানান তার দুইট কিডনিই বিকল হয়ে গেছে।
রাকিবের বাবা মোস্তাফা হাওলাদার বলেন, রাকিবের মা হাসিনা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে রাজি হয়েছেন। কিডনি প্রতিস্থাপন হলে ছেলের নতুন জীবন ফিরে পাবে। সে আশাতেই প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু চিকিৎসার শেষ ধাপে এসে অর্থের অভাবে সব আশাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি (রাকিবের বাবা মোস্তফা হাওলাদার) আরো বলেন, কৃষিকাজ করে তিনি সংসার চালান। কৃষিকাজের সীমিত আয় দিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটানোই কঠিন। তার ওপর ছেলের নিয়মিত ডায়ালাইসিস, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে দিশেহারা। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা তাদের সামর্থ্যের বাইরে। একদিকে ছেলের অসুস্থ শরীর, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয় এই দুইয়ের সঙ্গে প্রতিদিন লড়তে হচ্ছে পরিবারটিকে। যে মা নিজের শরীরের একটি অঙ্গ দিয়ে সন্তানকে বাঁচানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন, সেই মায়ের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন ছেলে আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন মানুষের সহযোগিতা।
কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান খান বলেন, রাকিবের পরিবার সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় মায়ের কিডনি ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রাকিব ফিরে পাবেন নতুন করে বাঁচার সুযোগ।
সহায়তা ব্যাংক হিসাব, রাকিবুল ইসলাম, হিসাব নম্বর: ০১৩৩৪০১৫৭৭০
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, শাখা: মতিঝিল ব্রাঞ্চ
মোবাইল ব্যাংকিং – বিকাশ (পারসোনাল): ০১৭৪৬-৬৪৬৫৮৯