
পূর্বধলায় ছেলের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বরের বাবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, ছেলের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেন মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া।
ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) বিয়ে ছিল পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুরে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়।
বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিকালে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে দুই নারী উপস্থিত হন। তাদের একজন কুড়িগ্রামের পচাকাটা এলাকার বাসিন্দা জান্নাতী খাতুন (২৮), যিনি নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। তার দাবি, হেলালের সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ২৮ জুলাই তাদের বিয়ের কথা ছিল। তবে হেলাল মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় সেই বিয়ে হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, তিনি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া একজন নারী এবং আগের সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে।
ঘটনাটি বিয়েবাড়িতে জানাজানি হলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিয়ে আর সম্পন্ন হয়নি। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেয় এবং সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি আমগাছে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ফাঁস দেন তিনি। পরে তার স্ত্রী হেলেনা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা জান্নাতী খাতুন ও তার মামাতো বোন শাহিনুর বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।